ভয় ও বাধামুক্ত নির্বাচনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে ভোটাররা কোনো ধরনের চাপ বা শঙ্কা ছাড়াই তাদের মত প্রকাশ করতে পারবেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ভোটার সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘সুপার ক্যারাভান’ উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণ সমাজ, নারী ভোটার এবং প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রশ্ন করুন, জানুন, বুঝে সিদ্ধান্ত নিন এবং ভোট দিন—কারণ আপনাদের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোটকে সামনে রেখে দেশব্যাপী প্রচারণার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ১০টি ‘সুপার ক্যারাভান’। এসব গাড়ি দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ঘুরে ভোটাধিকার, নির্বাচন পদ্ধতি ও গণভোট বিষয়ে তথ্য পৌঁছে দেবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ক্যারাভানগুলোর যাত্রা সূচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ড. ইউনূস বলেন, সুপার ক্যারাভান কেবল একটি প্রচারণামূলক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্রের বার্তা বহনকারী একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে জনগণ বুঝতে পারবে, একটি ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
নাগরিকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের মালিক জনগণ। আগামী পাঁচ বছরে দেশ কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই। সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সনদের পক্ষে, তাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেষে ড. ইউনূস বলেন, আসুন সবাই মিলে এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি—নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।

