বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

উচ্চমূল্যে আদানির বিদ্যুৎ: দুই বছরে লোকসান প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির ফলে বড় আর্থিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আদানির বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় গত দুই বছরে শুধু এই চুক্তিতেই পিডিবির লোকসান হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক বছরেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে জানান, আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা নিয়ে সৃষ্ট আর্থিক ও চুক্তিগত জটিলতার বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।

২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। ওই চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হচ্ছে পিডিবি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ না নিলেও মাসে বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জসহ অন্যান্য চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে বিদ্যুৎ আমদানির কারণে সংস্থাটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ কিনতেই লোকসান হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। শুধু গত দুই অর্থবছরে আদানিকে বিদ্যুৎ আমদানির বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত আদানিকে দেওয়া বিলের পরিমাণ কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

সংস্থাটির তথ্যে দেখা যায়, ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় খরচ যেখানে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৭১ পয়সা, সেখানে আদানির বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট প্রায় ১৫ টাকার কাছাকাছি। এমনকি দেশের বেসরকারি ও সরকারি অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায়ও আদানির বিদ্যুৎ অনেক বেশি দামী।

কয়লা সরবরাহের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আদানি অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব খনি থেকে কয়লা এনে গড্ডা কেন্দ্রে ব্যবহার করছে, যার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে পিডিবির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিরোধের নিষ্পত্তিতে আদানি সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

আদানি গ্রুপের দাবি, তারা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চায়। তবে বকেয়া বিল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। একপর্যায়ে বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও আংশিক অর্থ পরিশোধের পর তা স্থগিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এ চুক্তি দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশ্লেষক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে লোকসানের চাপ আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও আদানি থেকে আমদানি করা হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর হওয়ায় শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবেই এই সময়ে ব্যয় হতে পারে এক লাখ কোটি টাকার বেশি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন