২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর তিন বছরের বেশি সময়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দুই কোটিরও বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসিএস)সহ মোট টোল আদায় হয়েছে দুই হাজার ৯৩৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৫০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেতু চালুর পরপরই ২৬ জুন থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয় এবং টোল আদায় কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম কার্যকর করা হয়, যা টোল আদায়ে আরও স্বচ্ছতা এবং দ্রুততা এনেছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, তিন বছরের মধ্যে মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত মিলিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে দুই কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫টি। চলতি বছরের শেষ ছয় মাসে পারাপার হওয়া যানবাহন সংখ্যা ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৮টি, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪২৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকা।
সেতুর প্রথম বছরে (২০২২-২৩) মোট টোল আদায় হয়েছিল ৭৯৮ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৭০০ টাকা, দ্বিতীয় বছরে (২০২৩-২৪) ৮৫০ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা এবং তৃতীয় বছরে (২০২৪-২৫) ৮৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ২ হাজার ৫৫০ টাকা।
পদ্মা সেতুর একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে ২০২৫ সালের ৫ জুন। এদিন ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হওয়া ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন থেকে টোল রাজস্ব হয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
পদ্মা সেতু ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ বহুমুখী সেতু প্রকল্প। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ব্যয় সংযম নীতি অনুসারে চূড়ান্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণের মাধ্যমে সরকারিভাবে দিয়েছে। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩৫ বছর, প্রতি অর্থবছরে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পদ্মা সেতুর টোল আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের চাপ ধীরে ধীরে কমে যাবে।

