জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীসহ সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতা কয়েকজন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয় এবং দলের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ফ্যাসিবাদী আমলের নিপীড়নমূলক মামলায় জামিন নিতে আদালতে আসেন আখতার হোসেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতাদের পদত্যাগের খবর ভাঙানো বা সংক্রমণ সৃষ্টি করবে না। দলের নীতি ও কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে।”
এর আগে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এনসিপির ৩০ নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি চিঠি জমা দেন। সেখানে তারা বলেন, সম্ভাব্য জোট এনসিপির বহু কর্মী, সমর্থক এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, অল্প কিছু আসনের জন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যাওয়া দেশ ও দলের প্রতি বিশ্বাসহানির সমতুল্য বলে তারা মনে করছেন।
একই দিনে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন। তিনি ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, দল থেকে বিদায় নেওয়ার পরও তিনি গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও নতুন ধারার রাজনীতির লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাবেন। এর আগেই সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
দলীয় সূত্র বলছে, এনসিপির নেতৃত্ব এই বিরোধের মধ্যেও পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। এনসিপি সূত্রে আরও জানা গেছে, দলের নীতি ও আদর্শ পরিবর্তন করা হবে না এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখার বিষয়ে নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

