বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত পাঁচ বছরের একটি বড় অংশ হাসপাতালের শয্যায় কাটিয়েছেন। দলের ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, এই সময়কালে তিনি মোট ৪৮৪ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কখনো কারাবন্দি অবস্থায়, আবার কখনো মুক্ত থেকেও গুরুতর অসুস্থতার কারণে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাকে।
খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই জটিলতাগুলো আরও বেড়ে যায়। দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান এবং পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হন। পরে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজা বৃদ্ধির কারণে কারাভোগ আরও দীর্ঘ হয়।
করোনা মহামারির মধ্যে পরিবারের আবেদনের পর, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তিনি বাসায় ফেরেন। এরপরও তার শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে একাধিকবার হাসপাতাল ভর্তি হওয়া ছাড়াও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বয়স ও জটিল রোগের কারণে হাসপাতালে থাকার সময় আরও দীর্ঘ হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে লন্ডন যান এবং ১৭ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর দেশে ফিরে আসেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পেছনে বর্তমান সরকারের দায় রয়েছে। তিনি বলেন, “একটা প্রহসনমূলক রায় দ্বারা তাকে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। যে মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সাজানো রায় ছিল এবং সর্বোচ্চ আদালতের আপিল ও রিভিউতে প্রমাণিত হয়েছে।”

