রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নতুন বছরে নতুন বইয়ের হাসি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের, অপেক্ষায় মাধ্যমিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই স্কুলে এসে নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনো সব বই না পাওয়ায় হতাশায় সময় কাটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে বই বিতরণ করছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ শুরু হয়।

বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বই এসেছে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আজই বই দেওয়া হবে। তিনি বলেন, উৎসব আয়োজন না করে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে ডেকে বই দেওয়া হচ্ছে এবং বইয়ের মান যাচাই করতেও অভিভাবকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল গফুর হক বলেন, বেলা ১১টা থেকে একযোগে সব শ্রেণিতে বই বিতরণ শুরু হয়েছে। সবাই নতুন বই পাচ্ছে।

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিম উদ্দিন নতুন বই পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে জানায়, বাসায় গিয়ে বইয়ে মলাট দেবে এবং ইতোমধ্যে বাংলা বইয়ের ছড়া পড়েছে।

অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। চাহিদার তুলনায় কম বই আসায় শিক্ষকরা কোন শ্রেণিকে কয়টি বই দেওয়া হবে—সে হিসাব করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখনো হাতে বই পায়নি।

খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কেউ শ্রেণিকক্ষে গল্প করছে, কেউ খেলাধুলায় মেতেছে। তারা জানায়, বই দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি, তবে বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে বই বিতরণের রেজিস্টার নিয়ে শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশ করছেন। সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক জানান, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। সমানভাবে বই বিতরণের জন্য হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি বই ছাপা ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের বই বিতরণ এখনো চলমান রয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যত দ্রুত সম্ভব বাকি বই সরবরাহের কাজ শেষ করা হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন