মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্তমানে ৯১টি ইটভাটা কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র নেই একটি ভাটারও। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমি ও জনবসতির আশপাশে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার মোট ৯১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৫টিকে কাগজে-কলমে বৈধ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো ভাটারই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। বাকি ৭৬টি ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ হলেও অধিকাংশ ভাটা এখনও চালু রয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছর নতুন করে ইটভাটার লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন। তার মালিকানাধীন ‘মেসার্স জিয়া ব্রিকস-২ (এমজেটবি)’ নামে একটি ইটভাটা শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দী ইউনিয়নের চৌধুরীরহাট এলাকায় স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়নের জন্য কয়েকটি ইটভাটার মালিক আবেদন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শিবচরের বাশকান্দি ইউনিয়নের ‘মেসার্স পিবিএফ ব্রিকস’, কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের ‘মেসার্স জননী ব্রিকস’ এবং সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের ‘মেসার্স মোল্লা ব্রিকস-২’।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইটভাটা পরিদর্শনে দেখা গেছে, অনেক ভাটার ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে স’মিল, যেখানে কাঠ কেটে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। একই সঙ্গে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ এবং নদীর তীর থেকে মাটি কাটার কারণে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নে একাই রয়েছে ২০টির বেশি ইটভাটা। স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, একটি ইউনিয়নে এত সংখ্যক ইটভাটা থাকায় এখানকার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সনমন্দি এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় শিশু ও বয়স্কদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন না মেনেই এসব ভাটা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সচেতন নাগরিক খান মো. শহিদ বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো জেলার পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি ইটভাটার মালিক আলহাজ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, জেলায় বর্তমানে কোনো ইটভাটারই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।
মাদারীপুর ইটভাটা শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন চৌধুরী আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে কথা বলবেন জানিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান।
এদিকে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ইটভাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

