জানাজার নামাজ একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়, আর কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হয়। জানাজার মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা এবং তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি অধিকার রয়েছে—সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, জানাজায় অংশ নেওয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা এবং হাঁচির জবাব দেওয়া।”
—(সহিহ বুখারি: ১২৪০, সহিহ মুসলিম: ২১৬২)
জানাজার নামাজে ইমামতির ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিতে যোগ্যতাই মূল বিবেচ্য। যদি মৃত ব্যক্তির অভিভাবক (ওলি) ও এলাকার মসজিদের ইমাম—উভয়েই উপস্থিত থাকেন এবং মসজিদের ইমাম দ্বীনি জ্ঞান, তাকওয়া ও ইমামতির ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য হন, তাহলে তার ইমামতিতেই জানাজা আদায় করা উত্তম।
প্রখ্যাত তাবেঈ ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেন,
“জানাজার নামাজ মসজিদের ইমামই পড়াবেন। যাদের পেছনে তোমরা ফরজ নামাজ আদায় করো, তাদের পেছনেই জানাজাও আদায় করবে।”
—(কিতাবুল আসার: ২৩৭)
এছাড়াও তাবেঈন সালেম (রহ.), তাউস (রহ.), কায়েস (রহ.), মুজাহিদ (রহ.) ও আতা (রহ.)—তাঁরাও জানাজার ইমামতির ক্ষেত্রে মসজিদের ইমামকে অগ্রাধিকার দিতেন।
—(মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১১৪৩২)
তবে মৃত ব্যক্তির পরিবার বা আত্মীয়দের মধ্যে যদি এমন কোনো আলেম, পরহেজগার বা দ্বীনি জ্ঞানে অধিক যোগ্য ব্যক্তি থাকেন, যিনি মসজিদের ইমামের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, তাহলে তার ইমামতিতে জানাজা আদায় করাই উত্তম হবে।

