বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভারতে আবারো মসজিদ ও মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় সরকারি বুলডোজার দিয়ে একটি মসজিদ ও মাদরাসা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভল শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সালিমপুর সালার এলাকার হাজিপুর গ্রামে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক হাজী শামিম জানান, প্রায় চার দশক আগে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন প্রথমে স্থানীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভবনের একটি অংশ ভাঙতে বাধ্য করে এবং পরে বুলডোজার দিয়ে পুরো মসজিদ ও মাদরাসা ধ্বংস করা হয়।

অন্যদিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজেন্দ্র পেনসিয়া ও তহসিলদার ধীরেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, উচ্ছেদের আগে প্রয়োজনীয় নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদকৃত জমিটি এখন ২০টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মসজিদ কমিটির ওপর প্রায় ৭৮ দশমিক ৮ লাখ রুপি জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ মাসে সম্ভল জেলায় এক ডজনের বেশি ইসলামি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহি জামে মসজিদের পাশের দোকানপাট ও বসতবাড়িও রয়েছে। এ অবস্থায় ধর্মীয় স্থাপনা সংক্রান্ত মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এমন উচ্ছেদ অভিযান কেন পরিচালিত হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার আলেম ও সাধারণ মানুষ বলছেন, বুলডোজার অভিযানগুলো মূলত মুসলিমদের স্থাপনাকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে জনমনে ভীতি ও ক্ষোভ বাড়ছে। তারা প্রশাসনের কাছে সব ধর্মের উপাসনালয়ের প্রতি সমান আচরণ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন