বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মার্কিন হুমকির জবাবে যা বললেন ইরানের সেনাপ্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, কোনো ধরনের বহিরাগত হুমকি ইরান মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থনের প্রেক্ষাপটে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

জেনারেল হাতামি বলেন, “ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক বক্তব্য ও আচরণ দিন দিন বাড়ছে। আমরা একে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছি এবং এর ধারাবাহিকতা জবাব ছাড়া সহ্য করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের সংঘাতের চেয়েও কঠোর হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রিয়ালের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু স্থানে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

যদিও এই আন্দোলন এখনো ২০২২–২৩ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কিংবা ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর হওয়া গণআন্দোলনের মতো বড় আকার ধারণ করেনি, তবুও অর্থনৈতিক প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে।

ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সহিংসতা বাড়লে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ইরানি জনগণের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবির প্রতি সংহতি জানায়।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার অভিযোগ করে।

উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বড় পরিসরে হামলা চালায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য অভিযানে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

সূত্র: এএফপি

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন