শীত এলেই খেজুরের কাঁচা রসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে। গ্রামবাংলা থেকে শহর—সব জায়গাতেই এই মৌসুমি পানীয় বেশ জনপ্রিয়। তবে অনেকেই জানেন না, এই সুস্বাদু কাঁচা রস কখনো কখনো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুরের কাঁচা রসের সঙ্গে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রস সংগ্রহের সময় খেজুরগাছে ঝুলিয়ে রাখা হাঁড়িতে বাদুড় মুখ লাগায় কিংবা লালা ও মল-মূত্র ফেলে। এসবের মাধ্যমে রস দূষিত হলে তাতে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওই রস কাঁচা অবস্থায় পান করলে ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে।
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা ও বমি দেখা দিলেও পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে কাঁচা খেজুরের রস না ফুটিয়ে পান করলে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ, রস ভালোভাবে ফুটালে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু কাঁচা রসে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় থাকে। শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি ও মৃত্যুর আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খেজুরের রস পান করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কাঁচা খেজুরের রস পান না করে তা ভালোভাবে ফুটিয়ে বা গুড় বানিয়ে খাওয়াই নিরাপদ। পাশাপাশি রস সংগ্রহের সময় হাঁড়ি ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে কাঁচা রস সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শীতের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে অজান্তে যেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়তে হয়—সে জন্য খেজুরের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

