রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারত, চীন ও ব্রাজিলের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলে অর্থ প্রবাহ বন্ধ করা এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বিষয়টি প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, দ্বিদলীয় সমর্থনে প্রণীত ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’-এ ট্রাম্প নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। বিলটি আগামী সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করা হতে পারে।
গ্রাহামের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা কম দামে রাশিয়ার তেল কিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়াই এই বিলের উদ্দেশ্য। প্রস্তাবিত শুল্কের আওতায় সরাসরি ভারত, চীন ও ব্রাজিলকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই দেশগুলো তেল আমদানি অব্যাহত রেখে মস্কোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। এর আগেও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। গত ৪ জানুয়ারি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, রুশ তেল আমদানির প্রশ্নে সহযোগিতা না করলে ভারতের পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হবে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে বলেন, তিনি একজন ভালো নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে অবগত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও গত বছরের আগস্টে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। ভারত বরাবরই বলে আসছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতেই তারা রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত ৫০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত ও চীনের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

