ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউজের ঘোষণার পর যে তারা ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে—এর মধ্যে অর্ধেকই জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান—জাতিসংঘ কড়া অবস্থান নিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, “জাতিসংঘকে দেওয়া চাঁদা কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি সদস্য দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়।” তিনি আরও জানান, আমেরিকা অর্থ দেওয়া বন্ধ করলেও সংস্থা তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং যারা সংস্থার উপর নির্ভরশীল, তাদের সেবা দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে চলতি বছর সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া ১৫০ কোটি ডলারের মতো রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ দীর্ঘ সময় চাঁদা না দিলে সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকারের সুযোগ হারাতে পারে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই নিয়মে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
গুতেরেস বলেন, বাজেট সংকট এবং সদস্য দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে তিনি ‘UN80’ নামে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এর লক্ষ্য হলো খরচ কমানো এবং সংস্থার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপের পথ অনুসরণ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও মানবিক সহায়তার বাজেট কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে জাতিসংঘের উন্নয়নমূলক কাজের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

