ইসলামে হাই তোলাকে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে এবং হাই তোলার সময় যথাসাধ্য তা দমন করার নির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। একই সঙ্গে তিনি হাই তোলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা হাঁচি ভালোবাসেন, কিন্তু হাই তোলা অপছন্দ করেন। কেউ হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে উপস্থিত প্রত্যেক মুসলিমের উচিত তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা। অন্যদিকে হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। তাই কারো যখন হাই আসে, তখন সে যেন তা যথাসাধ্য রোধ করার চেষ্টা করে। কারণ হাই তুললে শয়তান খুশি হয় (সহিহ বুখারি: ৬২২৩)।
অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) আরও বলেন, তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন যেন সে নিজের মুখের ওপর হাত রাখে। কারণ ওই সময় শয়তান মুখে প্রবেশ করে (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৫)।
ওলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাই মূলত অলসতা ও উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ, যা শয়তানের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকাশ্যে হা করে হাই তোলায় শয়তান আনন্দিত হয় এবং তা আশপাশের মানুষের জন্য বিরক্তির কারণও হতে পারে। এসব কারণেই ইসলাম হাই দমন করার বা মুখ ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
হাদিসে হাই তোলার সময় বা পরে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার নির্দেশনা পাওয়া যায় না। তবে আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, হাই তুললে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ অথবা ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া সুন্নত। আলেমরা জানান, এ ধারণা সঠিক নয়।
তারা বলেন, যেহেতু হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, তাই কেউ ইচ্ছা করলে এসব দোয়া পড়তে পারেন। তবে এটিকে নবীজি (সা.)-এর সুন্নত বা বাধ্যতামূলক আমল হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

