ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন কৌশল ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্টের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের সহিংস ভূমিকার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও তেহরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অসামরিক স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলার বিকল্প রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের কথাই উল্লেখ করেছে।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ইরান এমন এক স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা তারা আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে এবং বহু বিক্ষোভকারী শাসনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানান।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানিয়েছেন, সরকার কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এরই মধ্যে ট্রাম্প একাধিকবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এমনভাবে আঘাত করা হবে, যা ইরান সবচেয়ে বেশি অনুভব করবে—যদিও এতে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি নেই।
এদিকে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আলোচনায় ইরানের পাশাপাশি সিরিয়া ও গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও উঠে আসে। রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এর ফলে ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে না পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও কূটনৈতিক মিশন ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিমান হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে প্রথম মেয়াদে ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

