ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগে সমঝোতা হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।”
তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জোটের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে একটি দল ৩০০ আসনেই প্রচারণা চালাচ্ছে এবং নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত বলে প্রচার করছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ভবিষ্যতে ঐক্য রক্ষাকে কঠিন করে তুলবে।
গাজী আতাউর রহমান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দলের সব পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, প্রার্থীদের বক্তব্য শোনা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর মজলিসে আমেলার বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ান বক্স পলিসির আওতায় আগামীর কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আসন সমঝোতা নিয়ে পাঁচ দলীয় জোট গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঁচ দলের বাইরেও আরও অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। এমনকি ১২ দলের সঙ্গেও কথাবার্তা হচ্ছে।
এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন ও জাতীয় সরকার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে অতীতের ঐক্যের পাটাতন ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে—জামায়াত ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা নেবে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে বিভাজন বিএনপিকে সুবিধা দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাজনীতিতে উত্থান-পতন স্বাভাবিক। কে কখন সুবিধা পাবে, তা নির্দিষ্ট নয়। তবে ইসলামী আন্দোলন ঐক্যের কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বিএনপির সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের জোট ও রাজনৈতিক নকশা চূড়ান্ত করেছে।
তিনি আরও জানান, এখনো কাউকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও ন্যূনতম সমঝোতা বজায় রাখতে ইসলামী আন্দোলন সচেষ্ট।
জনমত জরিপ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিছু তথাকথিত জরিপ বেইনসাফির সুযোগ তৈরি করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনের পথ নির্ধারণ করলে বিপর্যয় অনিবার্য।
সবশেষে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবার সঙ্গে সম্মান ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। পথ ভিন্ন হলেও সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

