বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদে নেমেছেন প্রবাসী ইরানিরা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্বের বৃহত্তম ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে নিউইয়র্কেও কয়েক শ মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীরা ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’, ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ এবং ‘নতুন হলোকাস্ট’-এর মতো অভিযোগ তুলে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। তারা ইরানে চলমান দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান, যেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে কিছু অংশগ্রহণকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগ ও বিচারের দাবিও তোলেন। উল্লেখ্য, খামেনি দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন।

এদিকে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে তিনি বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না—এমন আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট।

লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান দেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিকে ইরানি সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের পর বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই দমন-পীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু যাচাই করেছে। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এখনো এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন