জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬ এ বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামিটের কার্যক্রম শুরু হয়।
জামায়াতের পররাষ্ট্র বিভাগের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা সামিটে যোগ দেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মালদ্বীপ, ব্রুনাই ও শ্রীলঙ্কা।
সামিটের উদ্বোধনী পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় টিকে থাকার প্রশ্ন নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ডা. শফিকুর রহমান একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম। যদিও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তবে সেই প্রত্যাশিত লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণ সমাজের নেতৃত্বে জনগণ আবারও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অধ্যায় পেরিয়ে দেশ এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে, যদিও এই পথে এখনো বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

