সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর ‘১১ দলীয় নির্বাচনি জোট’ নিয়ে এখনও মাঠপর্যায়ে দ্বন্দ্ব চলছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে ১০ দলের মধ্যে আসন সমঝোতা বিষয়ে জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জোটের স্বার্থে কিছু আসনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে কর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে।

জামায়াতের অবস্থান অনুযায়ী, বৃহত্তর ঐক্য রক্ষা এবং ‘এক ভোট বাক্স নীতি’ বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা আশা করছেন, নির্বাচনের সময় তৃণমূল কর্মীরা দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলবেন।

এ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জামায়াত ২১৫টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১৩টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৪টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং খেলাফত আন্দোলন ১টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে।

তবে জামায়াতের ছাড় দেওয়া আসনগুলোতে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে স্থানীয়রা নিজের বাড়িতে অবরুদ্ধ করেছেন, যাতে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন। এ বিষয়ে তার ছেলে ডা. তানভীর জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণ এবং কর্মীরা তাকে সকাল থেকে বাড়িতে আটক রেখেছেন, যদিও জামায়াতের কোনো নেতা সেখানে ছিলেন না।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনেও সমঝোতার কারণে জামায়াত প্রার্থী না দিয়ে এনসিপি প্রার্থীকে দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় নেতা আমির সারাফাত হোসেন শাহিদ বলেন, “আমাদের এক বছর ধরে মাঠে পরিশ্রম করেছি। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী সরানো নিয়ে আমাদের অবস্থানও বিবেচনা করা উচিত।”

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এসব অসন্তোষ সাময়িক এবং বৃহত্তর স্বার্থে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জানান, “প্রার্থী প্রত্যাহারের কারণে কিছু নেতাকর্মীর ক্ষোভ স্বাভাবিক, তবে তা দলীয় ঐক্যকে প্রভাবিত করবে না।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন