রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রোগমুক্তির জন্য কোরআনে বর্ণিত দোয়া

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। এতে মানুষের জন্য রয়েছে সত্য, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার অনন্য দিকনির্দেশনা। কোরআনে এমন বহু দোয়ার বর্ণনা রয়েছে, যা আল্লাহ নিজেই কবুল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী দোয়া করেছেন নবী হজরত আইয়ুব (আ.)।

হজরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন আল্লাহর একজন ধনাঢ্য ও সম্ভ্রান্ত নবী। তার ছিল বিপুল সম্পদ, বহু সন্তান ও সম্মানজনক জীবন। কিন্তু আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের যেমন নিয়ামত দেন, তেমনি তাদের পরীক্ষা করেন। নবী আইয়ুব (আ.)-কেও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

এক পর্যায়ে তিনি সন্তানসন্ততি ও সম্পদ হারান। পাশাপাশি তিনি এক ভয়াবহ শারীরিক রোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিনের রোগে তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি শরীরের মাংস ক্ষয়ে যেতে থাকে। রোগের তীব্রতায় মানুষ তার কাছ থেকে দূরে সরে গেলেও একমাত্র স্ত্রী নিষ্ঠার সঙ্গে তার সেবা করে গেছেন।

এমন চরম দুর্দশার মধ্যেও নবী আইয়ুব (আ.) আল্লাহর প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গেছেন। তার জিহ্বা ও হৃদয় অক্ষত ছিল—এই দুইয়ের মাধ্যমে তিনি সর্বদা আল্লাহর জিকির ও প্রশংসা করতেন। তিনি কখনো অভিযোগ করেননি, বরং ধৈর্য ও সন্তুষ্টির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

অবশেষে তিনি আল্লাহর দরবারে যে সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ দোয়াটি করেন, তা কোরআনে স্থান পেয়েছে—

“অন্নী মাস্সানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিন।”
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(সুরা আম্বিয়া: ৮৩)

আল্লাহ তায়ালা এই দোয়া কবুল করেন এবং কোরআনে ঘোষণা দেন—

“অতঃপর আমি তার আহ্বানে সাড়া দিলাম, তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবারবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সঙ্গে আরও সমপরিমাণ দিলাম আমার বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে। এটি ইবাদতকারীদের জন্য এক মহান উপদেশ।”
(সুরা আম্বিয়া: ৮৪)

নবী আইয়ুব (আ.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—চরম বিপদের মধ্যেও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও ধৈর্য ধরে রাখলে তাঁর রহমত অবশ্যম্ভাবী। এই দোয়া আজও মুমিনদের জন্য আশার আলো হয়ে রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন