ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগে সম্প্রতি প্রকাশিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সংবাদের বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের অনুসন্ধানে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ঘটনাটি একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে দাবি করেছেন ওই নারীর স্বামী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তারা ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে জানান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নারী ও তার স্বামী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে ওই নারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি স্বামী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির প্রকৃত স্ত্রী ভিন্ন ব্যক্তি বলে শনাক্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি রাতে ওই নারী ও আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি রামরাবন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের ঘরে ঢুকে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আব্দুর রাজ্জাককে মারধর করা হয় বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা শিল্পী মনি দাস জানান, তিনি মারামারির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গেলেও ধর্ষণের কোনো আলামত বা কাউকে বেঁধে রাখার ঘটনা দেখেননি। একই ধরনের বক্তব্য দেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরাও।
ঘটনার পরদিন সকালে ওই নারী ও তার সঙ্গী এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাস জানান, তিনি কেবল একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা শুনেছেন, ধর্ষণের বিষয়ে কেউ তার কাছে বিচার বা অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পালাক্রমে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেউ আইনগত অভিযোগ করতে চাইলে আমরা গ্রহণ করবো।”
এদিকে পুলিশ জানায়, ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে যেসব কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের নাম ও পরিচয় সঠিক নয় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

