ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে এক মাসের প্রস্তুতি পর্ব শেষে এখন মূল ভোটের লড়াইয়ে নামছেন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রচার শুরুর আগেই সব প্রার্থী ও দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। যদিও তপশিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থী ও দলকে শোকজ নোটিশ ও জরিমানা করেছে ইসি।
ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে প্রার্থীরা ২১ দিন প্রচারের সুযোগ পাবেন। আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে এই প্রচারপর্ব। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে।
গতকাল বুধবার সারাদেশের ২৯৮টি আসনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১,৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন।
আপিল বিভাগের নির্দেশে পুনঃতপশিল হওয়ায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়নি।
ইসি জানিয়েছে, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী সংখ্যা সর্বনিম্ন, মাত্র দুইজন।
আজ থেকেই বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিক প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। সেখানে সমাবেশ শেষে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভায় অংশ নেবেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীতে ঢাকা-১৫ আসন ও মিরপুর এলাকায় জনসভা করবেন। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জাতীয় নেতাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবেন।
বাম ও প্রগতিশীল দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রচারাভিযান শুরু করবে।
বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। প্রতীক গ্রহণের সময় সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বাস্তবায়ন কমিটি’ কাজ করছে। পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ, মাইক ব্যবহারে শব্দসীমা নির্ধারণ, বিলবোর্ড ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে কড়াকড়িসহ একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে গুজব, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে এবার কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সব প্রস্তুতি ও সতর্কতার পরও ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রায় অর্ধশত অভিযোগ পেয়েছে ইসি। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শোকজ ও জরিমানার ঘটনা ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, আচরণবিধি সঠিকভাবে মানা হলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে।

