দেশের সরকারি মসজিদ ছাড়া অন্যান্য সব মসজিদে কর্মরত খতিব, ইমাম ও অন্যান্য জনবলকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পদমর্যাদা ও বেতন দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার প্রকাশিত ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি এখন থেকে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেড অনুসরণ করতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদের খতিবদের চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। চুক্তিপত্রে যে পদমর্যাদা ও বেতন নির্ধারণ করা হবে, সেটিই খতিবের পদমর্যাদা ও বেতন হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া সিনিয়র পেশ ইমাম নিয়োগ দেওয়া যাবে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর গ্রেড-৫ অনুযায়ী। এই গ্রেডের পদমর্যাদা সরকারের উপসচিব ও পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যায়ের সমতুল্য।
পেশ ইমামদের জন্য গ্রেড-৬ এবং সাধারণ ইমামদের জন্য গ্রেড-৯ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী—
-
প্রধান মুয়াজ্জিন: গ্রেড-১০
-
মুয়াজ্জিন: গ্রেড-১১
-
প্রধান খাদিম: গ্রেড-১৫
-
খাদিম: গ্রেড-১৬
-
নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নকর্মী: গ্রেড-২০
মসজিদের জনবল প্রতি মাসে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাবেন। তবে একসঙ্গে ১০ দিনের বেশি নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়া যাবে না। এছাড়া প্রতি ১২ কর্মদিবসে এক দিন করে অর্জিত ছুটির সুযোগ রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় প্রত্যেক পদে কর্মরতদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাত সদস্যের একটি নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে মসজিদের সব নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ হবে তিন বছর। কমিটির সদস্যরা মসজিদের নিয়মিত মুসল্লিদের মাধ্যমে নির্বাচিত বা মনোনীত হবেন।
নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মসজিদের নামে কোনো যানবাহন, সড়ক বা জনসমাগমস্থলে চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহ করা যাবে না।
মসজিদের আয়ের বৈধ উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও দাতাদের অনুদান, দানবাক্সের অর্থ, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আয়, সরকারি ও বেসরকারি অনুদান, শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকে জমা অর্থের মুনাফা, মসজিদের সম্পত্তি বিক্রির অর্থ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, এই নীতিমালার মাধ্যমে মসজিদ পরিচালনা, জনবল নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে।

