বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৩ হাজার, প্রথমবারের মতো স্বীকার করলো ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, সহিংসতা দমনে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রেস টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির মার্টির্স ফাউন্ডেশন জানায়, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যের সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। সংগঠনটির দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে মোট ৪ হাজার ৫১৯ জন নিহত হয়েছেন।

এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪ হাজার ২৫১ জন বিক্ষোভকারী, ১৯৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী নিহত ৩৫ জন এবং পথচারী ৩৮ জন রয়েছেন, যারা বিক্ষোভ বা নিরাপত্তা বাহিনীর কেউই ছিলেন না। সংস্থাটি আরও জানায়, অতিরিক্ত ৯ হাজার ৪৯ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দোকানদাররা রাস্তায় নামেন। পরে তা দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী দাঙ্গা’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতেই এসব সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে।

বিক্ষোভ দমনের কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় ও ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে ধাতব গুলিভর্তি রাইফেল ও শটগান ব্যবহার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র নিরস্ত্র মানুষের মাথা ও বুকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তেহরান আর সংযম দেখাবে না।

তিনি লেখেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান যে সংযম দেখিয়েছিল, ভবিষ্যতে আর তা দেখানো হবে না। পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষ শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ হবে এবং এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি কখনো তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টায় জড়ায়, তাহলে দেশটিকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’।

এমন অবস্থায় সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এসব দাবি নাকচ করেছেন ট্রাম্প।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন