রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইসলামে পর্দা একটি ফরজ বিধান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতে অসংখ্য মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। তবে সব সৃষ্টির মধ্যে মানুষকেই শ্রেষ্ঠ হিসেবে সম্মানিত করেছেন। ইসলামী পরিভাষায় মানুষকে বলা হয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণের পর আল্লাহ তাআলা তাদের জীবন পরিচালনার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন এবং অবতীর্ণ করেছেন আসমানী কিতাব ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আসমানী বিধান অনুসরণ করলেই সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। অন্যথায় সৃষ্টি হয় অরাজকতা, নৈতিক অবক্ষয় ও ফেতনা। আল্লাহ মানুষকে নারী ও পুরুষ—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল করে সৃষ্টি করেছেন। নারী-পুরুষের সম্মিলনেই সমাজ ও সভ্যতা গতিশীল হয়েছে।

কিন্তু ইসলামের আগমনের পূর্বে তথাকথিত অন্ধকার যুগে নারীরা চরম অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার ছিল। তাদের দুর্বল, অপয়া কিংবা ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখা হতো। এমনকি নারী শিশু জন্ম নেওয়ার অপরাধে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ইসলাম নারীকে ফিরিয়ে দেয় তার সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার।

ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই শালীনতা ও পর্দার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে মুমিন পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরের আয়াতে মুমিন নারীদেরও একই নির্দেশ দিয়ে তাদের সৌন্দর্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে (সূরা নূর: ৩০-৩১)।

ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দা বা হিজাব কেবল বাহ্যিক পোশাক নয়; এটি আত্মিক পবিত্রতা ও নৈতিক সুরক্ষার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা সূরা আহযাবের ৫৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, এই বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের অন্তরের পবিত্রতার জন্য অধিক উপযোগী।

আরও স্পষ্টভাবে সূরা আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তিনি যেন তাঁর স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদের বলে দেন, বাইরে বের হলে তারা যেন নিজেদের চাদরের অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এর ফলে তারা সহজে চেনা যাবে এবং হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুমিন নারীদের জন্য বাইরে বের হওয়ার সময় চাদর বা ওড়না দ্বারা মুখমণ্ডল ঢেকে নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং হাদিসের বর্ণনায়ও চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বিশেষত হজরত আয়েশা (রা.)-এর জীবনের ‘ইফকের ঘটনা’ ইসলামী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সেখানে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, পর্দার বিধান নাজিল হওয়ার পর তিনি একজন সাহাবিকে দেখামাত্র নিজের মুখ ঢেকে নিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, পরিপূর্ণ পর্দার মধ্যে চেহারা ঢাকাও অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, নারীর সৌন্দর্যের প্রধান প্রকাশ ঘটে চেহারায়। তাই সমাজকে ফেতনা ও অনৈতিকতা থেকে রক্ষা করতে পূর্ণ পর্দা অপরিহার্য। হিজাবের পাশাপাশি নেকাবও সেই পরিপূর্ণতার অংশ।

বর্তমান সময়ে যখন নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, তখন পর্দা বিধানের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যুব সমাজ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামের এই বিধান অনুসরণ করা সময়ের অন্যতম দাবি।

কোরআন, হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমল প্রমাণ করে—পর্দা ইসলামের একটি সুস্পষ্ট ও ফরজ বিধান, যা যুগে যুগে ঈমানদার মুসলমানরা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন