চাঁদাবাজদের সমাজের মূলধারায় ফেরাতে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজরাও এই সমাজেরই অংশ। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেবো—যাতে তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কারণে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার সামাজিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হয়। “আমরা চাই না কারও মা ‘চাঁদাবাজের মা’ বা স্ত্রী ‘চাঁদাবাজের স্ত্রী’ বলে অপমানিত হোক,”—যোগ করেন তিনি।
নদী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশের নদীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্যান্য নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদী বাঁচলে উত্তরবঙ্গ আবার প্রাণ ফিরে পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি লুটের টাকা উদ্ধার করা যায় এবং নতুন করে চুরি বন্ধ করা যায়, তাহলে দেশকে উন্নয়নের পথে নেওয়া কঠিন হবে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, আবার অন্য কেউ আমাদের দেশের ওপর খবরদারিও করতে পারবে না।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজ থেকে এসব অপরাধ নির্মূল করাই জামায়াতের লক্ষ্য। তবে অপরাধে জড়িতদের শুধরে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও তিনি মত দেন।
জনসভা শেষে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। উল্লেখ্য, এই পাঁচটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই পাঁচজনকে আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেলাম। এই আমানত রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের।”
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে শুক্রবার থেকে ঢাকার বাইরে সফর শুরু করেন ডা. শফিকুর রহমান। প্রথম দিনে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরে সমাবেশ শেষে শনিবার গাইবান্ধার জনসভা শেষ করে তিনি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে পাবনায় জনসভা শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

