গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি জনমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন তারা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সংলাপে এসব মতামত উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে হবে।
অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, নির্বাচিত সরকার কোনো দলের সরকার নয়, এটি পুরো দেশের সরকার। সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে শক্ত কাঠামো এবং দায়িত্ব লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধান থাকতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব প্রয়োগ জরুরি। তিনি জানান, এক সময় সংসদ সদস্যদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়, যা স্বচ্ছতার পথে বড় বাধা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা জরুরি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়ার বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের কথা বলা হলেও বাস্তব অগ্রগতি নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

