ভারতের উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে অষ্টাদশ শতকের প্রখ্যাত সুফি দার্শনিক ও কবি বাবা বুল্লে শাহের স্মৃতিবিজড়িত একটি মাজার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, শনিবার মুসৌরির উইনবার্গ–অ্যালেন এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত মাজারটিতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও লোহার রড ব্যবহার করে মাজারের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় সেখানে সংরক্ষিত ধর্মীয় বইও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরিওম, শিবায়ুন ও শ্রদ্ধা নামে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। গোষ্ঠীগত সম্প্রীতি নষ্ট, জনশান্তি ব্যাহত এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মাজার ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিংকি চৌধুরী বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দেহরাদুনের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার অজয় সিং জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে, বাবা বুল্লে শাহ কমিটির সভাপতি রাজত আগরওয়াল বলেন, এই হামলা শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার ওপর আঘাত নয়, বরং মুসৌরির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা।
উল্লেখ্য, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর আগেও মাজারটির সম্প্রসারণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ বলে দাবি করেছিল। তবে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাজারটি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিতে অবস্থিত এবং অনুমতি সাপেক্ষেই বহু বছর আগে এটি নির্মিত হয়। প্রশাসনিক তদন্তেও দখলদারির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুফি কবি ও চিন্তাবিদ বাবা বুল্লে শাহ ১৭৫৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মূল মাজার পাকিস্তানের কাসুর শহরে অবস্থিত।
