বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। সাম্প্রতিক এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকের ব্যবহারকারীর মধ্যে বড় অংশই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার মাদক গ্রহণ শুরু করেন, আর ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে।
গবেষণাটি বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে পরিচালনা করেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে। গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগ, ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডেটা অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগে মাদকের ব্যবহার সর্বাধিক (৬.০২%), এরপর রংপুর (৬%), চট্টগ্রাম (৫.৫০%), খুলনা (৪.০৮%) ও রাজশাহী (২.৭২%)। সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী ঢাকা বিভাগে—প্রায় ২২.৯ লাখ। প্রধান মাদকের মধ্যে রয়েছে গাঁজা (৬১ লাখ), ইয়াবা/মেথামফেটামিন (২৩ লাখ), অ্যালকোহল (২০ লাখ), কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইন।
গবেষণায় প্রকাশ, মাদক গ্রহণের প্রধান ঝুঁকি হলো বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশা। ব্যবহারকারীর ৯০ শতাংশ মনে করেন মাদক সহজলভ্য হওয়াই আসক্তির বড় কারণ। মাত্র ১৩ শতাংশ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন, যদিও অর্ধেকের বেশি চেষ্টা করেছেন মাদক ত্যাগের।
বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহিনুল আলম বলেন, “মাদক সমস্যা আর শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামাঞ্চলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা ছাড়া আসক্তি ত্যাগ করা কঠিন। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং একটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট।”
ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, “মাদকবিরোধী লড়াই শুধু পুলিশের নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সকলকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রচেষ্টা তিন স্তরে চলছে—সরবরাহ কমানো, চাহিদা কমানো এবং ক্ষতি হ্রাস।
গবেষকরা সুপারিশ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা, পরিবার-সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন।

