বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। “আমরা একটি ইসলামি দল। ইসলামের বিধান অনুযায়ী পুরুষই নারীর পরিচালক—এটা মেনেই আমরা রাজনীতিতে এসেছি,” বলেন তিনি।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার চার শীর্ষ প্রতিনিধি ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতের মহিলা শাখার প্রতিনিধিরা সরাসরি সিইসির সঙ্গে বৈঠক করলেন।
বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, নারী শাখার সদস্য মারজিয়া বেগম ও মহিলা বিভাগের সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট। এ সময় দলের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।
নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, “শীর্ষ পদে নারী থাকলেই নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত হয়—এ ধারণা ঠিক নয়। দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীর প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। জামায়াতে ইসলামী নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।”
ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত নারী প্রার্থী দিচ্ছে, যা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রমাণ। ভবিষ্যতে নারীরা দলের আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবে এবং সংসদ নির্বাচনেও সরাসরি অংশ নেবে।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তাদের নারী কর্মীরা হামলা, হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা জানান, এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সাইবার সিকিউরিটি আইনে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ১৫টি ঘটনার ডকুমেন্ট ও ভিডিও নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, তারা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। “বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে ও ভোটের প্রচারে অংশ নিতে চাই,” বলেন তারা।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, বাধা ও হুমকি দিয়ে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঠেকানো যাবে না। “আমাদের সাহস আছে, বিশ্বাস আছে। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করব,” বলেন তারা।
