সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে বিদ্রোহীদের আজীবন বহিষ্কার করবে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সময় গড়াচ্ছে দ্রুত। হাতে আর মাত্র ১০ দিন। কিন্তু শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজ দলের অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে মাঠে সক্রিয় এসব বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছেন।

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলের ভেতরে বাড়ছে চাপ ও উদ্বেগ। এ পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলের বিদ্রোহীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, যারা ওই সময়ের পরও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন, তাদের আর কখনো বিএনপিতে ফেরার সুযোগ থাকবে না। ইতিমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় একাধিক ধাপে বহু নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি ফোনকল চান। এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড সূত্র জানায়, তারেক রহমান বর্তমানে সারা দেশে নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত এবং তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাউকে আলাদাভাবে আশ্বাস দেবেন না।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, কৌশলগত কারণে কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নমনীয় অবস্থান নেওয়া হতে পারে। মূলত যেসব আসনে জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থানে রয়েছে, সেখানে জামায়াতকে ঠেকাতে বিএনপির কিছু শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীকে ‘ছাড়’ দেওয়া হতে পারে। তবে যেসব আসনে বিদ্রোহীদের কারণে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সেখানে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রোহীদের বড় অংশ ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে তারা আশাবাদী। ইতিমধ্যে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। যারা কথা শোনেননি, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল জানান, এখনো যারা মাঠে আছেন, তারাও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াবেন বলে দল আশা করছে।

বিভিন্ন আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব ও তৎপরতা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। তৃণমূলে কারা বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছেন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন