বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছেঁকা ও অবর্ণনীয় যন্ত্রণা: বিমান এমডি সাফিকুর ও তার স্ত্রী কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া আসামিদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার দিবাগত গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে বাসায় কর্মরত আরও দুই গৃহকর্মী—রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার ১১ বছর বয়সী শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা, যিনি একটি হোটেলে কর্মরত, রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নেওয়ার সময় তার লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ বিয়ের খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

গত বছরের জুন মাসে শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর বাবা বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন। এরপর থেকে তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে শিশুটির অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েকে বুঝে নেওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বাবা। শিশুটি তখন ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না।

পরবর্তীতে শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে জানায়, বাসায় বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মামলা দায়েরের পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন