রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রমজানের রোজা ভঙ্গ ও কাজা আদায়ের বিধান কী বলছে ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সওয়াব অর্জনের সর্বোত্তম সময় রমজান মাস। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ত্যাগ করা ইসলামে গুরুতর গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
“যে ব্যক্তি কোনো কারণ বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভঙ্গ করে, সে যদি সারা জীবন রোজাও রাখে, তবুও তা রমজানের একটি রোজার সমান হবে না।” (তিরমিজি: ৭২৩)

তবে অসুস্থতা, সফর বা শরীয়তসম্মত অন্য কোনো কারণে রোজা রাখতে না পারলে ইসলাম তা সহজভাবে বিবেচনা করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
“তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন এতে রোজা পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে, সে অন্য সময় সেই সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজটাই চান, কঠিনটা চান না।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)

যে ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ, সে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে, কিংবা অসুস্থতা, সফর বা নারীদের ঋতুচক্রের কারণে রোজা ভেঙে ফেললে পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা আদায় করা তার জন্য আবশ্যক। এ বিষয়ে চার মাজহাবের ইমামদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

হাদিসে এসেছে, এক নারী হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ঋতুমুক্ত হওয়ার পর কি নামাজ ও রোজা উভয়ের কাজা আদায় করতে হবে? উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ঋতুমতী হতাম। আমাদের রোজার কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা করতে বলা হতো না।” (নাসায়ি: ২৩১৮)

ফিকহবিদদের মতে, পরবর্তী রমজান আসার আগেই যত দ্রুত সম্ভব রোজার কাজা আদায় করা উত্তম। বিনা কারণে কাজা আদায়ে দেরি করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। যার ওপর কাজা রোজা রয়েছে, তার উচিত আগে ফরজ দায়িত্ব আদায় করা, এরপর শাওয়ালের ছয় রোজার মতো নফল রোজা পালন করা।

যদিও কাজা আদায় না করে নফল রোজা রাখলে তা সহিহ হয়ে যায়, তবে এটি শরীয়তসম্মত আদবের পরিপন্থী। বছরের যেকোনো দিনে রমজানের কাজা রোজা রাখা যায়, তবে ঈদের দিন ও যেসব দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ, সে দিনগুলোতে কাজা আদায় করা যাবে না। (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু)

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন