ইরানের সঙ্গে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৪টি জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান এবং তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী বিদেশে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং নিজ দেশের নাগরিকদের দমন-পীড়নে যে রাজস্ব ব্যবহার করে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একাধিক ব্যক্তি ও জাহাজকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে, ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে জড়িত ১৪টি জাহাজকে ‘ছায়া নৌবহর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং দুইজন ব্যক্তির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের চেয়ে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনাকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত থেকে অর্জিত আয়ের উৎস বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও ব্যবসায়ী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও আদেশে শুল্কের নির্দিষ্ট হার উল্লেখ করা হয়নি, তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ইরান থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য বা সেবা আমদানি বা সংগ্রহ করা হলে, সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।

