বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান-পলকরা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন কারাবন্দিরা। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দিও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোটদানের শেষ দিনে নিবন্ধিত বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দিও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট না দিলে তাদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কারাগারে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং জুনাইদ আহমেদ পলক। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন হাই-প্রোফাইল বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।

কারা সূত্র জানায়, নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। ভোট কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ-১ এলাকায় নিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগ-২ এলাকায় ১ হাজার ১৮৩ জন।

ভোটদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, প্রতিটি নিবন্ধিত বন্দিকে একটি প্যাকেটে তিনটি খাম দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ব্যালট পেপার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অপরটি গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বিকল্পসহ রাখা হয়েছে। ভোট প্রদান শেষে বন্দিরা খামগুলো সিল করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।

পরবর্তীতে এসব খাম ডাক বিভাগের এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটের সঙ্গে এই পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।

কারা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং শুক্রবার ৪২০ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সে সময় দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট ৮৬ হাজার বন্দি থাকলেও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন মাত্র ৫ হাজার ৯৯০ জন। এর মধ্যে ৩৮০টি আবেদন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বাতিল হয় এবং বাকিরা সময়মতো আবেদন করেননি।

এই উদ্যোগকে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন