জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে। জনগণের তহবিলের কোনো অপব্যবহার করা হবে না। তিনি বলেন, “প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে প্রতিবছর নিজের ও পরিবারের সব সদস্যের সম্পদের হিসাব জনসম্মুখে দিতে হবে। আমরা সরকারি প্লট কিংবা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না; প্রয়োজনে রিকশায় চলবো বা পায়ে হাঁটবো।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, রাজনীতি আমাদের দায়িত্ব। যারা রাজনীতিকে পেশা বানিয়েছে তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটে জড়িয়েছে।” তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার প্রকৃত মালিক বাংলাদেশের জনগণ।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির ভয়ে সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কিত। বংশানুক্রমিকভাবে ক্ষমতায় থাকার ধারণা পরিবর্তন করাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।
দেশের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এর দায় সাধারণ মানুষের নয়; দায় তাদেরই, যারা অতীতে দেশ শাসন করেছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঘামে অন্য দেশের ভাগ্য বদলায়, কিন্তু আমাদের দেশের ভাগ্য বদলায় না—এর একমাত্র কারণ অসৎ নেতৃত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “ভোটের সময় অনেকে পীর-দরবেশ সেজে মানুষের কাছে আসে, উন্নয়নের স্বপ্ন দেখায়। পরে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।”
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম নষ্ট হবে না, ফুটপাতের হকারদের চোখে আর পানি আসবে না।
জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

