চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণে দেশে প্রথম নওগাঁয় এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
শনিবার ( ৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলের দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি নিপাহ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ওই নারী মারা যান। তিনি উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তা জানার পর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি, তিনি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নিপাহ ভাইরাসে চলতি বছর এটাই প্রথম মৃত্যু।গত বছরের আগস্টের পর দেশে নিপাহ ভাইরাসে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা; গত বছর এই ভাইরাসে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান শারমিন সুলতানা।
নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মৃত রোগী ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সি এক নারী। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তার শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় হাসপাতালে এবং ওই দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গলা থেকে শ্লেষ্মা এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে তার শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। গত ২৮ জানুয়ারি ওই নারীর মৃত্যু হয়।
নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, আজকে আইইডিসিআর থেকে গণমাধ্যমকে তথ্যটি জানানো হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদেরকে লিখিতভাবে এখনো বিষয়টি জানানো হয়নি। লিখিতভাবে জানানোর পরই ওই রোগীর বিষয়ে আমরা বিস্তাারিত গণমাধ্যমকে জানাতে পারব। তবে আক্রান্ত ওই নারীর সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। তবে তার বাড়ি নওগাঁর কোথায় তা এখনো জানায়নি।
তিনি আরও জানান, নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ‘টেরোপাস’ প্রজাতির ফলাহারি বাদুড়। শীতকালে বাদুড় যখন খেজুরের রস সংগ্রহের হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে তখন তাদের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমে হাঁড়ির রসে ভাইরাস মিশে যায়। সেই কাঁচা রস মানুষ পান করলে সরাসরি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

