সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জামায়াতও

ডেস্ক রিপোর্ট।।

৮৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের সেরা নির্বাচনী সাফল্য অর্জনের দিকে এগোচ্ছে। দলটির দাবি, গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত অন্তত ৬০ আসনে জয়ী হয়েছে এবং আরও কিছু আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৩ বছর পর সংসদে ফিরছে জামায়াত।

জামায়াতের নির্বাচনী ইতিহাস

  • ১৯৭২: স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কারণে নিষিদ্ধ, ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

  • ১৯৭৯: মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট করে “ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ” নামে নির্বাচনে অংশ নেয়, ছয় আসন জয়ী।

  • ১৯৯১: পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ১৮ আসন পায়—তাদের পূর্ববর্তী সেরা সাফল্য।

  • ১৯৯৬: সপ্তম সংসদে ৩০০ আসনে অংশ নিয়ে তিনটি আসনে জয়ী হয়। ভোটের হার কমে ৮.৬৭%।

  • ২০০১: বিএনপির সঙ্গে জোটে ৩১ প্রার্থী, ১৭ জয়, ৪.৩% ভোট। প্রথমবার সরকারী জোটে অংশীদার।

  • ২০০৮: ৩৯ প্রার্থী, ভরাডুবি—মাত্র দুটি আসন, ৪.৭% ভোট।

  • ২০১৩–২০১৪: হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন বাতিল, নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা।

  • ২০১৮: ২১ নেতা “ধানের শীষ” প্রতীকে অংশ নেন, কেউ জয়ী হননি।

  • ২০২৪: ৭ জানুয়ারি নির্বাচনেও অংশ নেননি; ১ আগস্ট জামায়াতকে পুনরায় নিষিদ্ধ করা হয়।

গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক আন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় জামায়াতের ওপরের নিষেধাজ্ঞা কার্যত উঠে যায়। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

দলটি নির্বাচনে ব্যাপক তৎপরতা দেখালেও প্রধান বিরোধী দলের আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। তারপরও, অন্তত ৬০ আসনে জয়ী হওয়ার দাবির মাধ্যমে জামায়াত ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের নির্বাচনী মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিএনপি–জামায়াত জোটের সম্ভাবনা এবং নির্বাচনী শক্তির পুনর্বণ্টন আগামী সময়ে রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময়ের নির্বাসন, নিষিদ্ধ অবস্থা এবং রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের মধ্য দিয়ে জামায়াতের এই উন্নতি তাদের রাজনৈতিক স্থিতি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন