সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতিহাস রচনা করেছে। নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পথে। নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করবে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জয়ী সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ নেবেন। একই দিনে বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে করানো হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রশ্ন হলো, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন।

দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, রাষ্ট্রপতির পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর তিনি দলের চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব এবং আপসহীন চরিত্র তাকে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী এই নেতা ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় করে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা চলছে। রাষ্ট্রপতির পদেও তিন প্রবীণ নেতা ও একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আলোচনা হচ্ছে।

এ পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর নামও আলোচনায় এসেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শপথ ও সরকার গঠন সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সংবিধানের বাইরে গেলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার মুখে পড়া সম্ভব। তাই গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাবনা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত এই নামচিহ্ন এবং প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপতি প্রার্থীদের তালিকা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বসহকারে আলোচিত হচ্ছে।

সুত্র: বাংলা ভিশন

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন