বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নির্বাচন শেষে ঢাকাজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনের স্তূপ, অপসারণে ধীরগতি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার দিন পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে এখনো ঝুলছে প্লাস্টিক ও পিভিসির তৈরি ব্যানার-ফেস্টুন। কোথাও ছিঁড়ে পড়ে আছে রাস্তায়, কোথাও বা ঝুলছে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছে। এতে নগর সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে পরিবেশদূষণের আশঙ্কা।

তবে দুই সিটি করপোরেশনের দাবি, নির্বাচনের পরদিন থেকেই অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আচরণবিধিতে পলিথিন, পিভিসি, রেক্সিনসহ অপচনশীল উপাদানের তৈরি পোস্টার-ব্যানার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও টেলিফোন লাইনে প্রচারসামগ্রী টাঙানোও নিষিদ্ধ ছিল। বাস্তবে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রার্থী এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্লাস্টিকজাত ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও কাকরাইল—ঢাকা-৮ আসনের এসব এলাকায় এখনো অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। যদিও প্রধান সড়কগুলোতে তুলনামূলক কমেছে প্রচারসামগ্রী।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন মির্জা আব্বাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছিঁড়ে পড়া পিভিসির ব্যানার ড্রেনে জমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন—দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ। ফলে এ এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুনের সংখ্যাও ছিল বেশি।

গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোড, সাতরাস্তা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এখনো ঝুলছে প্রচারসামগ্রী। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয়ী সাইফুল আলম মিলন রোববার সকালে হাতিরঝিলের বিভিন্ন এলাকায় নিজ উদ্যোগে অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

বনানী, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনেও একই অবস্থা। মহাখালী ও কড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো পিভিসির ব্যানার চোখে পড়ছে। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন তারেক রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ব্যানার অপসারণে কাজ করছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নগর পরিচ্ছন্ন হবে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই সব অলি-গলি থেকে ব্যানার-ফেস্টুন সরানো হবে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। অপচনশীল পিভিসি ও প্লাস্টিকজাত ব্যানার দীর্ঘমেয়াদে মাটি ও পানি দূষণের ঝুঁকি বাড়াবে। দ্রুত অপসারণ ও ভবিষ্যতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন