ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নবীন-প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা চলছে। পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সদস্যকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় সম্ভাব্য নাম
দলীয় সূত্রে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, আমিনুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ।
সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ-সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, মন্ত্রিসভা ৪০ সদস্যের হলে সর্বোচ্চ চারজন টেকনোক্র্যাট নেওয়া সম্ভব।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, আমানউল্লাহ আমান, মজিবর রহমান সরওয়ার প্রমুখ।
দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। পাশাপাশি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
মিত্র দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং মাহমুদুর রহমান মান্না (টেকনোক্র্যাট কোটায়)।
দলীয় নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। শপথের দিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

