ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, জাতিরাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে প্রস্তুত।
রুবিওর ভাষ্য, “আগামীকাল যদি আয়াতুল্লাহ সাক্ষাৎ করতে চান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সব বিষয়ে একমত না হলেও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।”
তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর বলেও জানান তিনি। রুবিও বলেন, ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার দাবি, ইরানের হাতে পরমাণু বোমা এলে তা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অন্যান্য ইস্যু কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে সামরিক অভিযান চালায় বলে জানা যায়। যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবুও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।
গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়ে। একই সময়ে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় একাধিক বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
এদিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাতের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

