সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শুল্ক কমলেও কমেনি খেজুরের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট।।

শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। তবে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুরের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শুল্ক ছাড় ও এলসি মার্জিন সুবিধা ঘোষণার পরও বাজারে দাম কমার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের কারণে খেজুরের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ এবং আগাম আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়েছে। এর ফলে আমদানিকৃত প্রতি কেজি খেজুরের দাম অন্তত ৬০–৮০ টাকা কমার কথা। কিন্তু রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মৌলভীবাজারের পাইকারি আড়তগুলোয় এই ছাড়ের সুবিধা আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতাদের পকেটে রয়ে গেছে।

নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য ভরসার ‘জাহেদি’ খেজুরও এখন নাগালের বাইরে। গত ১০ দিনে ১০ কেজির খেজুরের কার্টন ১,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫০০ টাকা। উন্নত মানের মরিয়ম, মাবরুম ও মেডজুল খেজুরের দাম সাধারণ মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

আমদানিকারকরা অভিযোগ করছেন, শুল্ক কম হলেও বন্দরে কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা ট্যারিফ মূল্য বেশি ধরা হচ্ছে, ফলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, বাজারে কোনো সংকট নেই; মূলত রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ডাল, চিনি, ছোলা ও তেলসহ রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যারা আমদানি করেছেন, তারা সঠিকভাবে সরবরাহ করলে কোনো ঘাটতি হবে না।

সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ এবং আগাম করের ৫ শতাংশ পুরোপুরি বাতিল করেছে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, কেউ সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টিম বাজারে তৎপর থাকবে। ক্রেতারা প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকার সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন