দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ছয় মাসের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে এবং গাফিলতি পেলে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবদের সঙ্গেও আলাদা সভা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব পরিকল্পনা একত্র করে সরকারের সামগ্রিক রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এ কর্মপরিকল্পনায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রচলন থাকলেও আমরা ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার ঠিক করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সচিবদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—জনগণ ইশতেহারের ওপর সমর্থন দিয়েছে, তাই জনগণের ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে। দলীয় সংশ্লিষ্টতা নয়, মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রমজান উপলক্ষে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।”
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের অবস্থা পর্যালোচনা, প্রয়োজন হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সততা ও জবাবদিহির ওপর জোর দেন। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। প্রত্যেক মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও কাজের গতি সরাসরি তদারকি করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৮০ দিনের একটি প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে, যা দ্রুত জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের পাশাপাশি একটি সৌজন্য সভাও ছিল, যেখানে উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন তারেক রহমান। এছাড়া পাঁচজন মন্ত্রীর পদমর্যাদার ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

