বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে ‘ট্রানজিশন টিম’ গঠনের আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত সম্ভাব্য দুর্নীতি ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাই করতে একটি ‘ট্রানজিশন টিম’ (উত্তরণকালীন দল) গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু : অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কি না, তা প্রাথমিকভাবে যাচাই করতে একটি নিরপেক্ষ টিম গঠন জরুরি। এ টিমের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনকেও এতে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

তার মতে, আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের টিম সাধারণত দুই ধরনের সদস্য নিয়ে গঠিত হয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

প্রয়োজনে দলটি ফরেনসিক তদন্তও পরিচালনা করতে পারে। তিনি বলেন, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত বিদেশি ক্রয় ও বৈদেশিক চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার দাবি, এসব চুক্তির অনেক বিষয় জনসমক্ষে পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। ফলে নতুন সরকারের ওপর কী ধরনের দায়-দেনা বর্তাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য চুক্তিগুলোর বিশদ পর্যালোচনা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বিদায়ী সরকার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনা ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে চুক্তি করেছে। নতুন সরকার যেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পুনর্মূল্যায়নে আগ্রহী, তাই সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোও একই প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা উচিত।

ট্রানজিশন টিমের মাধ্যমে একটি ‘ব্লু বুক’ প্রণয়নের কথাও বলেন তিনি। এতে সরকারের বর্তমান দায়-দেনা, আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম চলতি অর্থবছরের জন্য দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে অর্থনীতিতে তিনটি বড় সংকট একসঙ্গে কাজ করছে নাজুক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, সংকুচিত রাজস্ব ও ব্যয়ের পরিসর।

সুপারিশগুলো

সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় হ্রাস, সংকটাপন্ন ব্যাংকে অতিরিক্ত সরকারি অর্থ বরাদ্দ থেকে বিরত থাকা, নতুন প্রকল্প স্থগিত রেখে চলমান ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পে অগ্রাধিকার।

এ ছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ২.৫ শতাংশে নেওয়ার মতো লক্ষ্যগুলোকে উচ্চাভিলাষী উল্লেখ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতে, শুরুতেই সঠিক অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে পারলে নতুন সরকারের সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়বে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন