আনন্দ মোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শাওন এবং তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) নদীর তীরে ঘুরতে গিয়ে অন্তত সাতজনের কিশোর ছিনতাইকারী দলের হাতে পড়েন।
পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রের সহপাঠীদের বরাত জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে শাওন ও রিয়াদ জয়নুল আবেদিন উদ্যান থেকে নদীর বিপরীত তীরে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ছিনতাইকারীরা তাদের ঘিরে ধরেন এবং যা আছে তা বের করতে চাপ দেন। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা না থাকায় দুই বন্ধুকেই মারধরের শিকার হতে হয়। শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারধর করা হয়। দুই বন্ধু পালানোর চেষ্টা করলে চারজন শাওনের পিছনে, তিনজন রিয়াদের পিছনে পড়ে। রিয়াদ নদী সাঁতরে পার হতে সক্ষম হলেও শাওনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা দ্রুত ১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরকে ধরে থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে নদীর তীরে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়েও সন্ধান চালালেও শাওনের খোঁজ মেলেনি। তবে শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদীর চরে তার মরদেহ পান এবং পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও কলেজের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, “আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোর দলের কবলে পড়েছে। একজন নদী পার হয়ে চলে এসেছে, কিন্তু শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সবার নাম-ঠিকানা পুলিশকে দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি।”
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, “লাশ ভাসতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদের খোঁজ চলছে।”

