বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ট্রাম্পের আদায় করা শুল্কের ১৩৩ বিলিয়ন ডলার ফেরত নিয়ে অনিশ্চয়তা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জারি করা জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি—অবৈধ ঘোষণা করা শুল্ক হিসেবে ইতোমধ্যে আদায় করা ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের কী হবে?

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জে বি প্রিৎজকার ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তার রাজ্যের পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুল্ক নীতির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মিত্র দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, গত বছর গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবার প্রায় ১,৭০০ ডলার শুল্কের বোঝা বহন করেছে।

শুধু রাজ্য সরকার নয়, বিভিন্ন কোম্পানিও শুল্ক ফেরতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তবে কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে—সে বিষয়ে প্রশাসন বা সুপ্রিম কোর্ট কেউই স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়নি।

পেন-হোয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য ফেরতের অঙ্ক ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এই অর্থ সাধারণ ভোক্তারা পাবেন, নাকি কোম্পানিগুলো—তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সরাসরি ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর আদালতে চলতে পারে।

ট্রাম্প-নিযুক্ত বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ মন্তব্য করেছেন, কীভাবে বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হবে—সে বিষয়ে রায় কিছু বলেনি। ফেরত প্রক্রিয়াটি ‘জগাখিচুড়ি’ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায় হয়েছে। আমদানিকারকরা ভুল প্রমাণ করতে পারলে ফেরতের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এবং নিম্ন আদালতগুলোর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে। অতীতে বাণিজ্য-সংক্রান্ত মামলায় আদালত ফেরতের ব্যবস্থা করেছে—১৯৯০-এর দশকে হারবার মেইনটেন্যান্স ফি অসাংবিধানিক ঘোষণার পর এমন নজির রয়েছে।

তবে একসঙ্গে হাজার হাজার আমদানিকারক ও শত বিলিয়ন ডলারের দাবি—এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রক্রিয়াটি জটিল ও দীর্ঘায়িত হলেও সরকার অবৈধভাবে আদায় করা অর্থ রেখে দিতে পারবে না। সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে অনলাইন পোর্টাল চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে, যেখানে আমদানিকারকরা ফেরতের আবেদন করতে পারবেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন