সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ‘ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে মণিপুর। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
রিভার্স ইমেজ সার্চ ও ভিডিও যাচাই করে জানা যায়, এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার ফুটেজ নয়। ভিডিওটি ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনের। সে সময় দুজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজেদের ‘মণিপুর রাজ্য পরিষদ’-এর প্রতিনিধি দাবি করে প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।
ভিডিওর পেছনের ব্যানারেও স্পষ্টভাবে “29 October, London” লেখা দেখা যায়, যা ওই সময়কার ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। অথচ সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে যেন এটি সাম্প্রতিক এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রঘোষণা।
অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে সাম্প্রতিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভারত সরকার বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ধরনের ঘোষণার স্বীকৃতি দেয়নি।
বর্তমানে মণিপুর ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য হিসেবেই রয়েছে। যদিও সেখানে জাতিগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা স্বীকৃতি নেই।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরোনো একটি রাজনৈতিক ঘটনার ভিডিও নতুন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। ফলে “মণিপুর স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে” শিরোনামে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়।
সংবেদনশীল ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা দাবির ক্ষেত্রে যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

