বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ডাক্তারি পড়তে চাপ দেওয়ায় ভারতে বাবাকে খুন করল ছেলে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক ভয়াবহ পিতাহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ২১ বছর বয়সী অক্ষত সিং তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে নীল প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলে এই নৃশংস ঘটনার বিবরণ প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ জানায়, নিহত মানবেন্দ্র সিং (৪৯) পেশায় মদ ব্যবসায়ী ও একটি প্যাথলজি ল্যাবের মালিক ছিলেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পড়াশোনা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

মানবেন্দ্র চাইছিলেন ছেলে বিকম ছেড়ে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ডাক্তার হোক, কিন্তু অক্ষত এতে রাজি হননি। তর্কের এক পর্যায়ে অক্ষত তার বাবার লাইসেন্সকৃত রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। এই নৃশংস ঘটনা ঘটে অক্ষতের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোনের সামনেই। পরে কাউকে কিছু বললে তাকেও হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।

হত্যার পর অক্ষত বাড়ির তিনতলা থেকে দেহ নামিয়ে ঘরোয়া যন্ত্রপাতি দিয়ে কয়েক টুকরো করেন। হাত-পা শহরের উপকণ্ঠের এক নির্জন স্থানে ফেলে আসে, আর ধড় ও মাথা নীল ড্রামে ভরে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে লুকিয়ে রাখেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এক বছর আগে মিরাটে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত ‘ড্রাম মার্ডার’ কেস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। মানবেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অক্ষতের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে সন্দেহ জোরালো হয়। পরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নীল ড্রাম উদ্ধার করা হয়। প্রথমে আত্মহত্যার গল্প ফাঁদলেও কড়া জেরায় অক্ষত স্বীকার করেছেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন।

মানবেন্দ্রের স্ত্রী নয় বছর আগে মারা গিয়েছেন এবং তার বাবা ছিলেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড লখনউ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এবং পুলিশ তদন্ত চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন