রমজান মাসের সমাপ্তিতে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য ওয়াজিব। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়।
ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া, বালেগ হওয়া কিংবা মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও তাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। সেক্ষেত্রে তাদের অভিভাবক তাদের সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করবেন।
— সূত্র: রদ্দুল মুহতার (২/৩৫৯)
ফিতরার উদ্দেশ্য
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) সাদাকাতুল ফিতর উম্মতের ওপর দুটি কারণে ওয়াজিব করেছেন—
১. রমজানের রোজাকে অশ্লীল ও অনর্থক কথা-বার্তা থেকে পবিত্র করার জন্য।
২. গরিব-মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য।
— সূত্র: সুনানে আবু দাউদ (হাদিস: ১৬০৯)
কখন আদায় করবেন?
ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
— সূত্র: সহিহ বোখারি (হাদিস: ১৫০৯)
তবে সাহাবিদের আমল থেকে জানা যায়, ঈদের দু-একদিন আগেও ফিতরা আদায় করা বৈধ। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুই-তিন দিন আগে ফিতরা প্রদান করতেন।
— সূত্র: মুয়াত্তা ইমাম মালেক (হাদিস: ৩১৬)
ফকিহগণের মতে, রমজানের শেষদিকে ফিতরা আদায় করা উত্তম, যাতে গরিবরা ঈদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।
— সূত্র: আলবাহরুর রায়েক, বাদায়েউস সানায়ে, রদ্দুল মুহতার
কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে ফিতরা আদায় না করতে পারলে পরে হলেও তা আদায় করা আবশ্যক। ফিতরা রহিত হয়ে যায় না; বরং দায় হিসেবে বহাল থাকে।
— সূত্র: ফাতহুল কাদির, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া

